গাজীপুর সিটি নির্বাচনে দলের মধ্যে বিরোধ মেটাতে আপ্রাণ চেষ্টা আওয়ামী লীগের

0
21
গাজীপুর সিটি নির্বাচনে দলের মধ্যে বিরোধ মেটাতে আপ্রাণ চেষ্টা আওয়ামী লীগের


স্টাফ রিপোর্টার: গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্থানীয় পর্যায়ে দলের মধ্যে বিরোধ মেটাতে আপ্রাণ চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। রবিবার দুপুরে রাজধানীতে গাজীপুরের নেতাদের ডেকে নিয়ে বৈঠকের পর অন্য একটি এলাকায় গত গভীর রাত অবধি নেতাদের নিয়ে বসেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা।

আগামী ১৫ মের ভোটকে সামনে রেখে গাজীপুরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের মধ্যে যে বিরোধ, মান অভিমান আছে, তা প্রশমিত করাই এই উদ্যোগের অংশ।

গতবার নির্দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আজমত উল্লাহ খানকে সমর্থন দেয়ায় হতাশ ছিলেন এবার দলীয় প্রতীকের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম। আবার এবার জাহাঙ্গীরকে মনোনয়ন দেয়ায় আজমতের হতাশা স্পষ্ট।

তবে গত ২৪ এপ্রিল আজমতকে জাহাঙ্গীরের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট করা হয়। তারপরও তিনি গোপনে জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে কাজ করছেন বলে তথ্য এসেছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রে।

গত ২৬ এপ্রিল আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সভাতেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। আর সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানান, বিষয়টি জানতে পেরে তিনি আজমতকে ফোন করেছেন। বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি তুলবেন তিনি।

আর এরপর দিন থেকে জাহাঙ্গীরের পক্ষে ভোটের প্রচারে নামেন আজমত। তবে তার প্রভাব বলয়ের বহু নেতা-কর্মী এখনও নীরব বলে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে রবিবার দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আজমত, জাহাঙ্গীর ছাড়াও সিটি করপোরেশন এলাকায় আওয়ামী লীগের দুই সংসদ সদস্য আ ক ম মোজাম্মেল হক ও জাহিদ আহসান রাসেল এবং গাজীপুরে স্থানীয়ভাবে প্রভাব বলয় গড়ে তোলা নেতাদেরকে নিয়ে বৈঠক হয়।

বৈঠকে অংশ নেয়া গাজীপুর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর ও মনোনয়ন বঞ্চিত আজমত-দুই জনকেই সতর্ক করেছেন ওবায়দুল কাদের। পাশাপাশি গাজীপুরের দুই সাংসদ আ ক ম মোজাম্মেল হক ও জাহিদ আহসান রাসেলকে বিভেদ মেটানোর দায়িত্ব দেন।

জাহাঙ্গীরও ‘একলা চল নীতি’ নিয়ে কাউকে পাত্তা দিচ্ছিলেন না বলে আওয়ামী লীগে তথ্য আছে। দল থেকে বলা হয়েছে, এমনটা করলে নির্বাচনী ফলাফল সুখকর হবে না। তবে জাহাঙ্গীর এখন এটি বুঝতে পারছেন।

পরে বিরোধ মেটাতে দায়িত্ব পাওয়া মোজাম্মেল ও রাসেল রাত ১১টায় গাজীপুরের আজমত-জাহঙ্গীরসহ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের নিয়ে বসেন উত্তরার আবদুল্লাহপুরের কাছাকাছি একটি এলাকায়। সেই বৈঠক চলে রাত দুইটা অবধি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা জানান, নিজেদের মধ্যে ক্ষোভ আর হতাশা ভুলে দলের স্বার্থে জাহাঙ্গীরকে জেতাতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রতিজ্ঞা করেছেন সবাই।

ওই নেতা বলেন, ‘বিরোধ মেটাতে গাজীপুরের হেভিওয়েট সব নেতা বৈঠকে উপস্থিত থাকলেও বেশ কিছু বিষয়ে মতবিরোধ রয়েই গেছে। এতে করে শঙ্কা কাটেনি জাহাঙ্গীরের নৌকার বিজয়ে।’

ওই নেতা জানান, বৈঠক শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় জাহাঙ্গীরের চোখে পানি ছিল। তিনি বারবার সেটি মুছার চেষ্টা করেছেন। এর মধ্যেই সব নেতাকে নৌকার পক্ষে কাজ করার আকুতি জানিয়ে বিদায় নেন জাহাঙ্গীর।

এই বৈঠকে ছিলেন গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জাহাঙ্গীরের প্রধান সমন্বয়কারী আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক। তিনি নির্বাচনসংক্রান্ত সমস্যাগুলো জানতে চান।

এসময় গাজীপুর আওয়ামী লীগের নেতারা একে একে তাদের সমস্যাগুলো তুলে ধরেন। বৈঠকে বেশ কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, মহানগর ও এর অন্তর্গত সাংগঠনিক থানাসমূহের  নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে চলমান সমন্বয়হীনতা দূর করা, কাউন্সিলরদের ভোট চাওয়ার পাশাপাশি নৌকার প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাওয়া, দলীয় সমর্থকদের মধ্যকার বিরোধ মেটানোর চেষ্টা, নির্বাচন পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ, পোস্টার ও হ্যান্ডবিল সরবরাহ প্রভৃতি।

তবে এ বিষয়ে ওই বৈঠকে উপস্থিত কোনো নেতা নাম প্রকাশ করে কিছু বলতে রাজি হননি।

আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত গাজীপুর সিটি করপোরেশনে ২০১৩ সালের মেয়র নির্বাচনের ফলাফল দলের জন্য ছিল বিব্রতকর। সেই নির্বোচনে দেড় লাখ ভোটে পরাজয়ের সঙ্গে এই এলাকায় সংসদ নির্বাচনগুলোর ফলাফল পুরোপুরি বিপরীত। আবার ৫৭টি ওয়ার্ডের বেশিরভাগে যেখানে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীরা জিতে সেখানে মেয়র পদে এই ভোটের ফল দলের ভেতর দ্বন্দ্বেরই একটা প্রমাণ বলে ধারণা করা হয়।

ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থন দিয়েছিল আজমতউল্লাহ খানকে। আর দলীয় প্রতীকে এবারের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম তখন দলের সমর্থন না পেয়েও প্রার্থী হন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় সীমা পেরিয়ে গেলেও তিনি তা তুলে নেননি। এর মধ্যে হঠাৎ উধাও হয়ে যান জাহাঙ্গীর। পরে একটি হাসপাতালে দেখা মেলে তার।

সেখান থেকে গাজীপুর ফিরে কাঁদতে কাঁদতে আজমতকে সমর্থন জানান জাহাঙ্গীর। কিন্তু তিনি ভোট থেকে সরে দাঁড়ালেও ব্যালট পেপারে তার নাম থেকে যায়।

সে সময় আজমতের হয়ে প্রচারেও নামেন জাহাঙ্গীর। তবে তাকে ঘিরে নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের হতাশা ছিল এটা স্পষ্ট। এ ছাড়াও সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল, গাজীপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী মোজাম্মেল হকসহ বিভিন্ন প্রভাব বলয়ের মধ্যেও দ্বন্দ্ব ছিল ওই নির্বাচনে।

সেসব দ্বন্দ্ব মিটেছে, সেটা হলফ করে এবারও কেউ বলতে পারছে না। আর এই দ্বন্দ্ব না মেটালে ভোটের ফলাফল ক্ষমতাসীন দলের জন্য সুখকর হবে না বলেই ধারণা করছেন সমর্থকরা।



Source link

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here