হাওরাঞ্চল থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী সুস্বাদু ও দেশীয় জাতের ধান

0
8
হাওরাঞ্চল থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী সুস্বাদু ও দেশীয় জাতের ধান


সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। কৃষি কাজের উপরেই হাওর বেষ্টিত সুনামগঞ্জ জেলাবাসী নির্ভরশীল ও জীবন জীবিকা পরিচালনা করে থাকে। এক সময় হাওরাঞ্চলের প্রচুর পরিমানে দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন সুস্বাদু ধানের চাষ হলেও আধুনিক প্রযুক্তি,বেশী উৎপাদন জমিতে অধিক ধান ফলানোর আশায় সময় এবং বাস্তবতার কাছে হার মেনে স্থানীয় সল্প খরছে পরিবেশ বান্ধব সুস্বাদু জাতের ধান চাষের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে কৃষকগন। বর্তমানে বিভিন্ন কোম্পানির বিভিন্ন রখমের ধান উন্নত ও উচ্চ মাত্রায় বেশী ফলনশীল ধানের জাত আবিষ্কার করার ফলে কৃষকরা সে দিকেই দৌড়াছে।
জানাযায়,জেলার হাওর জুড়ে অতিবৃষ্টি,অনাবৃষ্টি,বন্যা,প্রাকৃতিক র্দূযোগ ও খরার কবলে থাকার পরও চাষ যোগ্য ফসলি জমিতে চাষাবাদ করছে। কিন্তু বিগত ১০-১২বছরের ব্যবধানে জেলার হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি থেকে হারিয়ে গেছে প্রায় অর্ধশতাধিক স্থানীয় জাতের সুস্বাদু ধান। কৃষকগন জমিতে আর আগের মত মন জুরানো বিভিন্ন সুস্বাদু জাতের আলাদা বৈশিষ্ট্য,গন্ধ ও লোভনীয় স্বাদের ধান চাষে তাদের কষ্টার্জিত ফসলের সঠিক মূল্য ও চাহিদা না থাকায় কৃষকরা জমিতে চাষ করছে না।
আরো জানাযায়,জেলার-তাহিরপুর,জামালগঞ্জ,ধর্মপাশা,মধ্যনগর,দিরাই,শাল্লা,ছাতক,দোয়রা বাজারসহ ১১টি উপজেলার হাওর গুলোতে কৃষকরা দীর্ঘ দিন ধরে স্থানীয় জাতের ৫৮রখমের ধান চাষ করত। গত ১যুগের ব্যবধানে ঐ সব উপজেলার হাওর গুলোতে বিভিন্ন কারনেই স্থানীয় জাতের ও সুস্বাধু ধান চাষ করা হয় না। এসব ধানের মধ্যে রয়েছে আকর্শনীয় নাম স্বাধ,গন্ধ ও ক্ষেতের ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্য। স্থানীয় জাতের মধ্যে.লাখাই,রাজাসাইল,সোনামুখী,মধুমালতি,স্বর্নমূয়রী,মধূবিরইন,চিনিগুড়া,ময়নাসাইল,লতাশাইল,পাজম,নাজিশাই,বাইগুন বিচি,ধলাকাচাই,মৌমাইল,গড়িয়া ইত্যাদি জাতের ধান চাষ হয় না। পূর্বে গ্রাম বাংলার বাড়ি বাড়ি বিভিন্ন রখমের সুস্বাদু জাতের ধানের চাল দিয়ে রান্না করা হত অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য এবং বিশেষ কোন অনুষ্টানে,বিয়ে,বনভোজন ইত্যাদিতে। এখন কেবল কিছু এলাকার সচ্ছল ও শৌখিন কৃষকরা নিজেদের খাওয়া ও অতিথি আপ্যায়নের জন্য কয়েক প্রকার সুস্বাধু জাতের ধান চাষ করে।
তাহিরপুর উপজেলার শনির হাওরের কৃষক নুর জামাল জানান,তিনি ২একর জমিতে ব্রি আর ২৮জাতের উচ্চ ফলনশীল ধানের চাষাবাদ করেছেন। এর উৎপাদন দেশী ধানের চেয়ে অনেক বেশী। তাহিরপুর উপজেলার কৃষক নুরুল হক মিয়া জানান,তিনি কিছু জমিতে দেশীয় লাকাই ধানের চাষাবাদ করেছেন। উৎপাদন কম হলেও এই ধানের চাল খেতে সুস্বাদু। সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারন কার্য্যালয় সূত্রে জানাযায়,জেলার আবাদ জমির পরিমান ২লাখ ৭৬হাজার ৪শত ৪৭হেক্টর। এবার ২লাখ,২১হাজার ৭৫০হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। আর বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্র ১২লাখ ১৯হাজার ৪১৪মেট্রিকটন ধান। যার মূল্য ২হাজার ৯২৪কোটি ৬৭লাখ ৩৬হাজার টাকা। কিন্তু সুস্বাধু ও স্থানীয় জাতের ধানের পরিমান একবারেই সামান্য।
খেলু মিয়া,বাচ্চু মিয়া,সংগ্রামসহ জেলার কৃষক ও সচেতন জেলাবাসী বলেন,হাওরাঞ্চলের দেশী জাতের ধানের তৈরী পিঠা পায়েস,চিড়া,খই মুড়ির বেশ কদর ছিল এখনও আছে। থাকলে কি হবে দেশী জাতের সেই ধান গুলোই ত আর নেই। যদি সরকার ও কৃষি বিভাগ ঐসব ধান চাষাবাদ ও সংরক্ষন না করে তাহলে আমাদের পরিবর্তিত প্রজন্মে কাছে এর কোন ধারনাই থাকবে না।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস ছালাম জানান,বেশী ফলনের আশায় কৃষকগন হাইব্রিড জাতের ধানের দিকে ঝুঁেক পড়ছে সবাই। আমাদের দেশীয় জাতের ধান চাষে আগ্রহী হচ্ছে না। ফলে হাওরাঞ্চল থেকে হারিয়ে যাচ্ছে সুস্বাদু জাতের ধান।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন-প্রয়োজনীয় উদ্দ্যোগের মাধ্যমে আবহমান বাংলার কৃষকদের স্থানীয় জাতের ধান চাষে আগ্রহী করে তুলতে ও সুস্বাধু জাতের ধান রক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

 



Source link

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here